Friday, 6 August 2021

সোনালী মিত্র--সোনামন

    


সোনামন/ সোনালী মিত্র



ভেসে যায় জলঘূর্ণিতে বাসিফুলের মালা

ভেসে যায় দেবপুরুষের মৃত দেহ 

এপারে কেবলই বসন্ত উৎসব রানী সঙ্গমের চাঁদ 

ধূলোর ভিতর খেলা করে ছলছল জল

কে যেন কেঁদেছিল এককালে- ধুলোয় সেই পুরাতন জল 

সাদেক মিঞা হেঁকে বলে গরম ভাতের ঘ্রাণ

ভাতের মতো স্বাদ মিয়াঁর বিবি যুবতী অন্বেষণ  




ওপারে উড়ন্ত খই, ওপারে রসময়ী কীর্তন 

উথালউত্তাল গান গাইছে  কাঞ্চা সোনামন 

তার এক বুকে কৃষ্ণপ্রেমিক অন্য বুকে খদ্দের 

সুর তার লয় তার শানিত নিঃশ্চুপ

নদীর দু পারের রঙ্গ নিয়ে পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছ 

পাখিরাই কেবল জানে না  ঈশ্বর বানাবার কৌশল

       

সুমন মল্লিক--মা ও ছেলে

    

 

মা ও ছেলে

সুমন মল্লিক

..................

 

ডাক্তারের কাছে অনুরোধ :

একবার অন্তত ধরে দিন৷ ওর গান শুনি৷

#

নম্বর ডায়াল করা হয়

দুই চোখ দিয়ে যেন জল ঝরবে এখুনি৷

#

মা দু’চোখ ভরে দ্যাখে

ছেলে গান গায় হেসে, শরীরখানি দোলে৷

#

ছেলে মোবাইল স্ক্রিনে

মা-কে ঢলে পড়তে দ্যাখে মৃত্যুর কোলে৷ 


অপূর্ব পালের তিনটি কবিতা--বিভোর ডাহুক ও অন্যান্য...

 


অপূর্ব পালের তিনটি কবিতা


বিভোর ডাহুক

..…........….…...…


চলো একবার খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াই

আমাদের অভিমান গুলো সব

পাখি হয়ে যাক

দীঘল পালক সেই পাখিটির নাম ঝড় বোধহয় 


সে আবার শান্ত হবে 

নিটোল দিঘির জলে ছায়া ফেলে 

দুটি স্থলপদ্মের গাছ ; 

দিনভর ডেকে যাক বিভোর ডাহুক...


----------------------------------------@ অপূর্ব পাল


ওঘাবতী, 

তোমায় যখন ভিজতে দেখি

জারুল গাছের ছবি আঁকি মনে মনে 

দূরে কোথায় বৃষ্টি বাজে বনে বনে...


--------------------------🌧️💕 অপূর্ব পাল


ভালোবাসা এতো অনাদর পায় বারবার 

তবু যদি একবারও " ভালোবাসি" বলে

বিরল মাধবী ফোটে আমার সিথানে ; 

কতবার ইচ্ছে করি মনে মনে

ঘুমের ঘোরে...ঘুমের ভিতরে ; 

সুখেতেই পুড়ে মরি প্রদীপের বিরল আগুনে 


..….…..………………………………….@ অপূর্ব পাল


কৌশিক গাঙ্গুলীর একগুচ্ছ কবিতা -- ১ "দর্পনে একা " ২ "শব্দগুলো "৩ এই তো চলমান জীবন আমাদের ৪ "জীর্ণ পাতা " ৫ "দুঃস্বপ্ন "

 

..


কৌশিক গাঙ্গুলীর একগুচ্ছ কবিতা --


"দর্পনে একা "


লেখা যাবে সেই 

জীবনের কথা , যে জীবন 

অনেকের কাছে অজানা । 

টাকার কাছে , ক্ষমতার কাছে 

বিক্রি হয়না যে বিবেক , 

রক্তে ভেজা পথকে জড়িয়ে 

যার পথচলা , মানুষের 

কথা বলা , আত্মসমর্পন 

শুধু ভালবাসার কাছে , 

তার কান্নায় হৃদয় ভেজেনা 

মুখোশধারীদের , বড় একা সে 

অসহায় সে , তবু কেনা যাবে 

না তাকে , মরে যাবে অবহেলায় ,

নিঃসঙ্গতায় , সমাজ তাকে 

মর্যাদা দেবে না , পরিবার 

তাকে বুঝবেনা তবু সে লিখে 

যাবে যুগ যন্ত্রনার কথা 

সাদা পাতায় । 

@ কৌশিক গাঙ্গুলী ।



"শব্দগুলো "-  


রাস্তা দিয়ে হাঁটার ভেতরে স্পর্ধা 

থাকে কবির , স্বপ্নের ভেতরে প্রেম 

তবু যেকথা অনেকে বলেনা সেই 

কথা লেখা হয় সাদা পাতায় 

জীবন্ত শব্দগুলো নাড়িয়ে দেয় সমাজকে ।



এই তো চলমান জীবন আমাদের



একজন বিখ্যাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম ‘বারবার পুরস্কৃত কিভাবে ?’

স্মিত হেসে পিঠ চাপড়ে বললেন, ‘অনেক আপোষের শৃংখল গেঁথে,

একজন সেব়া লম্পটকে জিজ্ঞাসা করলাম তার লাম্পট্যের উৎস কি?

চমৎকাব়ভাবে জানাল; জহুরী জহর চেনে, সে চেনে নেশা ও নারী,

একজন রাজনীতিককে জিজ্ঞাসা করলাম; এত বার দল পাল্টান কি করে? 

তিনি কপাল কুঁচকে মুখে হাসি এনে বাণী দিলেন; চোখে কম দেখি যে… 

সংখ্যাগরিষ্ঠ যুবসমাজকে জিজ্ঞাসা করি; এভাবে ধ্বংস করো কেন সমাজকে? 

কিছুটা হুল্লোড় ও সিটি সমেত জানালো; শুধু বুঝি কেরিয়াব় অথবা অন্ধকার।

একদল ব্যতিব্যস্ত শিশুদের জিজ্ঞাসা করলাম; ফার্স্ট হবেতো সব্বাই?

নানা দিক থেকে ছিটকে এলো উত্তর-মা জানে, বাবা জানে, 

পরীক্ষার খাতা জানে........ 

এই ভাবেই বেঁচে থাকা, এই তো চলমান জীবন আমাদের।।

 

"জীর্ণ পাতা " 


শূণ্য থেকে শূণ্যে অনবরত ঘাই মারছে শেয়ার আর শেয়ার   প্রতারিত ও হতাশ বুদ্ধুরা কমন্ডুলে ঢালছিল মদ   ঢ্যামনা সমাজ তাদের জটিল লালায় আঁকছিল ধনবানদের ছবি   ঝা চকচকে গাড়ি ,হীরের নেকলেশ  , নোটভর্তি  ব্রিফকেস    শ্রেনীসচেতনতা ক্রমশঃ প্রাচীন ইতিহাসের জীর্ন পাতা   কোন এক অন্ধকারে অচেনার মতন বসে আছে ইশ্বর !   আজ কাকতাড়ুয়াদের  কাজ নেই ভয়ঙ্কর পঙ্গপালদের উদর ভর্তি তাতে দেদার ফূর্তি   মদের বদলে রক্ত , গাছের বদলে ক্যাকটাস আর নৌকাবিলাস   সত্য এখন বেশ্যাখানায় , জেলখানার গারদে  গারদে , জ্বলন্ত চুল্লীতে   হাততালি একগাদা হাততালির মধ্যে আমরা পরস্পরের দিকে জিভ ভেঙচিয়ে বলছি ভাল আছি ।  @ কৌশিক গাঙ্গুলী ।



"দুঃস্বপ্ন "   

বেঁচে থাকার মহড়া দিতে দিতে একদিন আমরা শ্রেষ্ঠ কাপুরুষ যোদ্ধা হয়ে উঠবো , যতরকম ধান্দাবাজি বুঝে স্বার্থপরতার মেডেল বুকের মাঝে আটকে যৌনতার জয়ধ্বনি দিতে দিতে একশো আটটা নিমপাতা দান করবো সততাকে ।   একদিন সব প্রকার ধূর্তরা খাবি খেতে খেতে এমন ঢেকুর তুলবে যে নারদও লজ্জা পাবে ..,    একদিন সমস্ত দুনম্বরীরা একসাথে পাপ নদীতে চান করতে করতে আহ্বলাদে হুটোপুটি ও কামড়াকামড়ি এবং কিছুটা চাটাচাটি সমেত খুঁজে পেয়েছিল অরাজকতা । তারপর একদিন আমরা বোকার মতন সব মুখগুলোর মুখোশ ও আচরণের ভড়ং সমেত হারিয়ে গেলাম এ গলি থেকে অন্য চোরাগলিতে , এদিকে ধীরে ধীরে কুয়াশা ,কালো ধোঁয়ারা অন্ধকার করে দখল নিচ্ছে মানুষের বিবেক আর বোধ । - কৌশিক গাঙ্গুলি ।


পৃথা রায় চৌধুরী--চন্দ্রভুক

                       

      

চন্দ্রভুক / পৃথা রায় চৌধুরী


দেখছো বসে, অপেক্ষা করছো

কালোয় গিলে নিচ্ছে চাঁদ একটু একটু করে

চাঁদের শরীর জুড়ে রক্তপাত,

জমে যাচ্ছে তামাটে লাল।

 

চেঁচিয়ে বলেছো, শুরু হোক উচাটন!


খুলে ফেলেছি দুধ সাদা সমস্ত ফাঁস গেরো কুঁচি

পাত পেড়ে খেয়ে নিচ্ছি গ্রহণ লাগা চাঁদ

খাচ্ছি বুড়ি, চরকা আর চাঁদের রক্তপাত

কৃন্তনের গোপনীয়তা জানি, পবিত্র পিশাচী দেহ


অন্ধকারের সামনে দাঁড়িয়ে খুলে রাখি আবৃত জোছনা

ন্যাংটো কালো জন্ম,

বসি গ্রহণের শীশমহলে।

সাদা দেখা যায় না, দেখা যায় না কালো...

কালোর মোড়কে অনাবৃত থাকে দুগ্ধবতী স্তন,

পূর্ণগ্রাস আলো। 






 



সাবিত্রী দাসের দুটো কবিতা--১ দায় ২ বিকেলে ভোরের ফুল

                              

                                       


                                            সাবিত্রী দাসের দুটো কবিতা                     

দায়


সাবিত্রী দাসের দুটো কবিতা  

পলাশ বনের আগুনের দায় নিয়ে

খেলেছি হে প্রিয় স্নিগ্ধ মধুর খেলা। 

বিস্ফোরণের দাপটে যুঝেছি জেনো, 

নিষিদ্ধ সুখে কেটে গেছে সারা বেলা।


শিমূলের বনে  হয়েছে উতল বায়ু


তোমাতে উতল আমিও তো সারা বেলা।

সমিধ দিয়েছ মহান যজ্ঞে মাতি

হুতাশন সনে মোহন মায়াবী  খেলা।


বাঁচিয়ে  রেখেছি একক শয্যা তাই 

পরশ পাথর  ছুঁয়ে দিলে তুমি এসে, 

একক সত্ত্বা দ্বৈত্ব সত্ত্বা হয়ে

মৌনমুখর হৃদয়ে রয়েছ মিশে।


অলক্ত-রাগে রাঙা মন নিয়ে আজ


হৃদয়ের বীণা বেঁধেছি মিলন সুরে,

খেয়ালী বিধির অমোঘ বিধান বলে ,

চলে গেছি আজ হাজারো যোজন দূরে।


                    ২

     বিকেলে  ভোরের ফুল 


কি জানি কখন ভেসে  গেল মন

     মোহনার সাথে মিশে , 

তৃষাতুর বুকে  নিবিড় সুখের 

      সংকেত এল ভেসে। 


সময়ের সাথে ভেসেছে সময় 

      নির্জন আলাপনে,

বিমূর্ত ছবি  মূর্ত হলো যে

      মর্মমূলের টানে।


বয়ে গেল দিন  ভেসে  গেল রাত

    এক হয়ে দুটি প্রাণ, 

সেতারের তারে বেহাগের রাগে 

    ভুলে  যত অভিমান। 


অধরে অধরে মিলিত প্রহরে

    মোহন তৃপ্ত সুধা,

হত বিহ্বল পুলকে আকুল 

      নৈবেদ্যের ক্ষুধা।


বুকের গভীরে মোচড়ানো ব্যথা 

       জেগেছে মর্মমূলে,

নামহীন গানে  অন্তিম টান

     বিকেলে ভোরের ফুলে।

 

অগ্নিশ্বর সরকার---বর্ষা

 


বর্ষা

                                               অগ্নিশ্বর সরকার


জল থৈ থৈ চারদিকেতে

শ্রাবণ মাসের দুষ্টুমিতে,

অঝোর ধারায় ভিজছে দেখো

ছোট্ট খুকী খোলা ছাদেতে।


মন আজ থাকছেনা ঘরেতে


সবুজ ঘেরা চারপাশেতে,

বল দু-পায়ে ছোট্ট রায়ান

ছুটছে বাড়ির পাশের মাঠে।


পাখিরা আজ করছে কোলাহল


পায়ের চাপে জল-ছলছল,

বৃষ্টি আজ ঝরুক অবিরাম

বর্ষাকালে আজ মন মাতাল।।



গৌরী মৈত্র--এক নির্বাক যাপন

 

                                                       এক নির্বাক যাপন

---------------------------

 গৌরী মৈত্র 


আক্ষেপের কোণঠাসা ঘরে টানটান একটা ইজিচেয়ারে 

নজরবন্দি কিছু আবেগ, আটক কিছু প্রার্থনা... 

সেখানেই সকালের রিংটোন আর বিকেলের রিংটোন 

একদম আলাদা- অন্যরকম, 

তাই সম্পর্কের ব্যবস্থাপনায় যে মলম দেওয়া হয়, 

তার থেকেও যে অসুখ অসুখ গন্ধ ছড়ায়---

তাই সে যখনই পরিত্যক্ত সেই স্টুডিয়োয় যায়,

 অস্পষ্ট সব পৃষ্ঠার ভাজগুলি  জানলা খুঁজতে থাকে;

 অথচ শীলমোহর মারা কিছু প্রথা ছিল,

 যে প্রথার নজরকাড়া সভায় এক দীর্ঘশ্বাস

কয়েকটা ধ্বংসস্তূপ ও তার ক্রমিক সংখ্যার থেকে সরে 

এক নির্বাক যাপনের  দিকে চেয়ে থাকে !

 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকের কলমে-- কবিতা পত্রিকার সম্পাদনা কি কবিতার ভাষায় হতে হবে ? না, এমনটা নয়, কবিতা বস্তুত আমাদের বঙ্গবাসীর রক্তের মাঝেই রয়ে গেছে। একট...