মহুয়া ব্যানার্জীর তিনটি কবিতা--
১. রক্ত ঝরে আজও
আরো একবার কবিতা লিখবে বলে
ব্যর্থ কবি কলম ধরতে চাইল।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া সম্পর্কগুলোর
পাশ কাটিয়ে সন্তর্পণে এক পা দু পা
এগিয়ে মেপে নিল জল।
ঠিক কতটা আঁতলামো আর কতটা
বেদনা মেশালে কবিতা ঠিকমত পণ্য হবে...
কতটা দারিদ্রের কথা কত ফোঁটা অসহায়তার
রসে জারিত করলে পুরস্কৃত হওয়া যাবে,
সে সব এখন তার নখদর্পণে।
মাটিকে ভুললেও মাটির কথা লিখতে হবে।
সব বুঝে শুনে কবি আজ চালাক হয়েছে।
রাতের আঁধার শুধু জানে কবির রক্তাক্ত
হৃদয়ে ঝরে চলেছে পণ্য না হওয়া কবিতাগুলো।
২. চুপ !
শব্দ কোরোনা, ধর্ষণ চলছে।
চুপ করে চেয়ে দেখো শুধু
রঙ্গমঞ্চ তৈরী হয়েছে কেমন...
যাত্রা পালা হবে গো যাত্রাপালা-
একে একে মঞ্চে ধর্ষিত হবে
মা বোন দেশ-
তোমরা হাততালি দেবে উল্লাসে।
রঙ বদলাবে, ভাষা বদলাবে,তবুও
ধর্ষকের ভূমিকায় অভিনেতাকে
সোনার মেডেল দেবে।
তারপর বিছানায় মাংসের ঢেকুর
তুলে ভাববে আবার কবে মাংস খাবে।
৩. কালযাত্রা
আজকাল দিনগুলো বড় দীর্ঘ আর বেরঙিন।
ফ্রয়েডীয় ভাবনায় সুইসাইডাল।
কাঁচের জারে রঙিন মাছের মত
ছটফটাচ্ছে জীবনের প্রতিক্ষণ।
মধু চুষে ফুলটা ছিবড়ে হয়ে রাস্তায় -
প্রজাপতি ডানা ভেঙ্গে ঘষটাচ্ছে মাটিতে।
মাথার ভেতর অ্যাম্বুল্যান্সের ভোঁ
মনে করিয়ে দিচ্ছে , সময় শেষ প্রায়।
রাতপরীর দল এখন প্লাস্টার খসে
যাওয়া পুরানো বাড়ির মত জীর্ণ।
ঘাসপাতা নদী জল তবুও অপেক্ষায়
হয়ত সুদিন আসবে, হয়তবা!
খুব সুন্দর হয়েছে
ReplyDelete