মাহফুজ নেওয়াজের কবিতা--
তুমি এলে যখন
তুমি ইতস্তত মৃদু পায়ে হেঁটে এলে,আমার ঘরে,
বরাবরের মতো আজও আমার আবাস ছিল,
অবিন্যস্ত বিছানার উপর রবিঠাকুর পড়ে ছিলেন অবহেলায়।
দেয়ালের কানায় কানায় মাকড়শার সুক্ষ্ম জাল,
কৃত্রিম আলোয় করছে চিক চিক।
আমি হতভম্ব,তুমি এলে,অথচ বাতাস থেমে গেলোনা,
কৃষ্ণচূড়া ঝরে পড়ল না।
পাখিরা থামায়নি তাদের কলতান।
সূর্য হতবাক হয়ে থমকে যায়নি,
কি করে বুঝবো তোমার আগমণ,
দরজায় দাড়িয়ে তুমি,
অবনত চোখে মুখে,শেষ বিকেলের মন খারাপ করার রক্তিমতা,
আমি বললুম,এসো,তুমি এলে, বললুম,বসো,
তুমি পাখির নীড়ের মত এলোমেলো বিছানায় বসলে।
এসো আর বসোতেই যাবতীয় কথা ফুরিয়ে গেলো,
অথচ তোমায় বলবার জন্য গভীর রাতে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকে,
কান পেতে,কত কথা সাজিয়েছি।
আজ সব পালিয়ে গেলো,গভীর কোন গর্তে,
ফুলদানীতে একটি সদ্য ছেড়া রজনীগন্ধা,
গলাকাটা মুরগীর মতো জন্মাচ্ছিল, অন্তিম বেদনা।
এ বেদনার রং নেই,আছে শুধু গন্ধ,
বড় সুন্দর গন্ধ এই বেদনার।
তোমায় কি দেবো ভাবছি,সব ভালোবাসাতেই উপহার থাকে।
যেমন ছিল,ফরহাদের উপহার জীবন।
নির্বাক তোমায় সদ্য ছেড়া বেদনাময়
রজনীগন্ধা দেবো ভেবে, হাত বাড়ালাম।
তুমি নিশ্চুপ গ্রহন করলে,নৈবেদ্য আমার।
তাকালে আমার পানে, বড় শান্ত সে চোখ,দীঘির জল
কিংবা অনাবিষ্কৃত দ্বীপের মতো,
বললে,আমার বিরহে হয়োনা অভ্যস্ত।