রতন কর্মকারের (বাংলাদেশ ) দুটি কবিতা--
১
পথিক
তুমি একাই হাঁটছো মহাবিশ্বের পথে
জীবনের মধ্যাহ্ন সময় যখন ছুঁই ছুঁই করছে
শ্রান্ত ক্লান্ত শরীর আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে
দাঁড়িয়ে থাকার সাহস তুমি হারিয়ে ফেলেছো
নিজের উপরে তোমার ভীষণ অভিমান
পার্থিব জড় জগত টাকে উইপোকার মতো মনে হয়
ভাবছো একটু একটু করে অন্তসার করে তুলছে
পিছনে ফিরে তাকালে দুর্বল হবে মন
রুদ্ধ হবে এগিয়ে যাবার সকল
পথ
বাকী আছে অনেক পথ,
যেতে হবে অনেক দূর
ভীতু পথিকের মনের অজান্তে কন্ঠে আসে গান
সে গানে তার থাকেনা কোন সুর
তবুও সে গান মনের ভীতি করে দূর
তেমনি করে তোমার সকল ক্লান্তি করিতে হবে দূর
গাহিতে হবে গান কন্ঠে তোমার সুর হবে সুমধুর
সে সুরে মোহিত হবে এ জগত সংসার
দুরে যাবে ক্লান্তি তোমার অমঙ্গল যতো আছে হবে সংহার।
তখনি কবির কন্ঠে বলিবে তুমি
কেন প্রান্ত ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘপথ
উদ্যম বিহনে কারও পুরে মনোরথ?
২
মিনতি
সৃজন করিয়াছো যাহা এই বিশ্ব ময়
যা কিছু হচ্ছে ধরায় তোমার ইশারায়।
মানুষের সাধ্য কি আছে এ নিয়ম ভাঙিবার
তুমি পার শুধু ভাঙা গড়া সবকিছুই করিবার
তবে কেন এ যাতনা দিতেছো তুমি
কি দোষে লক্ষ প্রান বধিতেছ জানিনা আমি।
হয় যদি অপরাধ দাও ক্ষমা করে
নইলে তোমার সৃষ্টি যাবে রসাতলে
মনুষ্য জাতির দর্প চূর্ণ করেছো তুমি
তোমার শক্তির কাছে বিন্দুমাত্র শক্তি নাই তা আমি জানি
তাই তো তোমার কাছে মোর এ মিনতি
ক্ষমা করে দাও যতো অপরাধ বাঁচাও ধরা শোন মোর আকুতি।
No comments:
Post a Comment