Thursday, 5 August 2021

ফিরোজ আহমেদ স্বপন--আবার তোমাকে চাই

 

     আবার তোমাকে চাই

                          * ফিরোজ আহমেদ স্বপন


নীলাদ্রি : হ্যালো! 

              হ্যালো শুনতে পাচ্ছেন ?


নেহাল :  হ্যাঁ বলুন । কে আপনি ?



নীলাদ্রি  : কবিদেরকে অনেকেই খুঁজে? অটোগ্রাফ বা তাদের একটু কথা পাঠকের অনেক প্রিয়।


নেহাল  : ফোন দিয়েছেন কেন ? বলুন ? 


নীলাদ্রি : প্রোফাইল আইডি তে ‘ কবি ' নামটি সামাজিক পরিচয়ের জন্য যথেষ্ট । কিন্তু আপনার নিজের পরিচয় ?


 নেহাল : কেন ?  কি প্রয়োজন ?


নীলাদ্রি : পরিচয় দিতে কোন সমস্যা আছে ?


নেহাল : তা নয়, তবে অপরিচিত কোন মেসেঞ্জারে নক করা ঠিক হলো কি ? 


নীলাদ্রি : বেশ ভালো লিখেন আপনি


নেহাল : পোস্টের কমেন্টই যথেষ্ট , এখানে কেন ?


নীলাদ্রি : আপনার আপডেট প্রোফাইল পিকটা বেশ সুন্দর।


নেহাল : অনেকেই বলে


নীলাদ্রি : লেখালেখি ছাড়া আর কি করেন আপনি?

               সংসার করেছেন ?


নেহাল : একান্ত ব্যক্তিগত প্রশ্ন। 

             না করলেই নয় কি ?


নীলাদ্রি : লেখক কবিকে আমি পছন্দ করি।


নেহাল : কবিতাকে পছন্দ করেন না ?


নীলাদ্রি : কবিতার জন্যই তো কবি।


নেহাল : আপনি লিখতে পছন্দ করেন ?


নীলাদ্রি : শুনতে ।


নেহাল : ঠিক আছে , আমি এখন রাখব।


নীলাদ্র : লিখবেন বুঝি ?


নেহাল : লিখতেই বসেছিলাম ।


নীলাদ্রি : অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাবেন না?


নেহাল : লিখতে লিখতে যদি ঘুম এসে যায়


নীলাদ্রি : পাশে বসে কেউ ঘুমাতে বলে না ?


নেহাল : আরো এগুচ্ছেন আপনি , আমি এবার রাখছি।


নীলাদ্রি : আবার কখন কথা হবে ?


নেহাল : প্রয়োজন আছে কি?


নীলাদ্রি : আমার কিছু কথা ছিলো


নেহাল : যা বলার চট করে বলে ফেলুন


নীলাদ্রি : কোন রং আপনার পছন্দ ?


নেহাল : ঘটা করে একজন অপরিচিতের কাছে এমন                     

           অদ্ভুত প্রয়োজন আর অদ্ভুত প্রশ্ন এই প্রথম ।


নীলাদ্রি  : নীল রং কি আপনার পছন্দ


নেহাল  :  এক সময় করতাম


নীলাদ্রি : এখন আর নীল রং পছন্দ করেন না ?


নেহাল :  আমার আকাশ জুড়ে সন্ধ্যার 

             লাল  আভা   ছড়িয়ে আছে।

              নীল কে হারিয়ে ফেলেছি ।


নীলাদ্রি : এখন বুঝি খুঁজেন না ?


 নেহাল : যে হারিয়ে গন্তব্য খুঁজে সে কি আর ফিরে

           আসে ? 

            ফিরে তাকিয়েই কি লাভ?


নীলাদ্রি : যদি কখনো সমুদ্রের নীল ঢেউ 

               আপনাকে এসে জড়িয়ে ধরে, খেলতে      যাবেন না তাকে নিয়ে ?                                                            নীলাভ স্নিগ্ধতা যদি আপনাকে ভিজিয়ে দেয় তাকে ছাড়িয়ে দেবেন কি ? মেনে নেবেন না ?


নেহাল : সমুদ্রে যাবার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেছি ।

              অনেক আগেই স্মৃতিগুলোকে 

               তলিয়ে দিয়েছি ।


নীলাদ্রি : স্মৃতিগুলো হৃদয়ে নাড়া দেয় না ?


নেহাল : ওরকম কিছু এখন আর ভাবি না,

          ভেবেই কি লাভ ?

             যন্ত্রণা বাড়বে বৈ কমবে না।


নীলাদ্রি : একেবারে কাছ থেকে সমুদ্রের  গর্জন শুনেছেন ? ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভালোবাসার শব্দগুলো ? জোছনার আলোয় শুভ্র ঢেউয়ে ভালোবাসার শব্দ শুনেছেন কখনো ?


নেহাল : সে অনেক আগের কথা। জোছনা মাখা অপার সৌন্দর্যের  অপরূপ ঢেউ দেখতে ছিলাম , একটি শুভ্র নীল হৃদয়ের গভীরতা আবিষ্কার করেছিলাম। শক্ত দুটো হাত এক হয়ে আস্থায় বিশ্বাসের বাসা বেঁধে ছিলাম।

জোয়ারে ভেসে গেল বিশ্বাস, ভাটায় নেমে নিরুদ্দেশ হলো আস্থা।


নীলাদ্রি : অনেক দুঃখ পেয়েছিলেন বুঝি ?


নেহাল : তার সুখের সুখটুকু ভেবেই দুঃখেও আমার সুখ অনুভূত হয়। আমি ধূ ধূ বালুচরে খেলা করি মিছেমিছি।


নীলাদ্রি : আমার খেলাও যে সাঙ্গ হলো গো ।

আমি আবারও সাগরতীরে তোমায় নিয়ে খেলতে চাই। আবারো নতুন করে পুরনো স্মৃতিকে আগলে রাখতে চাই।


নেহাল : কে ? কে বলছেন আপনি ?


নীলাদ্রি : নীলাদ্রি,

তোমার নীলাদ্রি ।

চোরাবালিতে তলিয়ে যাবার ভয়ে আমাকে আগের মতোই আগলে রাখবে না ?

তোমার হৃদয় দিয়ে আমার ভাঙা স্বপ্নগুলো ছুঁয়ে দেবে না ?


নেহাল : এখানেও তুমি তেমন করেই খেললে ?

          নিজেকে আড়াল করে হাসনাহেনার 

          প্রোফাইল ছবিতে সুস্মিতা হলে।


নীলাদ্রী : বিশ্বাস করো, 

               সবার আড়ালে তোমার কাছে আসবো বলে এমনটি করেছি আমি , ইচ্ছে করে নয়। 

 আমি তোমার কাছে আবার নীলাদ্রি হয়ে আসতে চাই, তোমার  হৃদয়ের কোণে একটু করে ঠাঁই পেতে চাই।


নেহাল : জীবনের এ প্রান্তে এসে স্মৃতিগুলোকে আর কষ্টে জড়িয়ে দিওনা।


নীলাদ্রি : আমার কষ্ট গুলোকে ছুঁয়ে দাও, তোমার দুঃখ গুলোকে সুখের চাদরে ঢেকে দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করব, তোমার স্পর্শে  আমি ছন্দময় স্বপ্নে ভাসবো। 


নেহাল : তোমার সংসার ? তোমার দীপু?


নীলাদ্রি : বছর দেড়েক পরেই দীপু রোড এক্সিডেন্টে   মারা গিয়েছিলো। সংসার আর হল কোথায় ?


নেহাল : এতদিন ? 


নীলাদ্রি : সেদিনের পর থেকে ‌সবার অজান্তে 

              সেই যে  তুমি গ্রাম ছেড়ে দিলে, তোমাকে  কেউ বলতে পারে না।অনেক করে খুঁজেছি, প্রোফাইলের ভিড়ে কবিতার গন্ধ শুঁকে শুঁকে তোমায় পেয়েছি। আমাকে ফিরিয়ে দিওনা।


নেহাল : ও দিনের কথা মনে পড়ে কি ?

               সন্ধে আবছায় চলে যেতে যেতে বলেছিলে      

               “আমাকে ভাবতে হবে"।

               সেই ভাবনার উত্তর পেয়েছি অন্যভাবে।

               আমি সইতে পারিনি, তাই সবার অজান্তেই নিরুদ্দেশ হলাম।


নীলাদ্রি : অমন করে বলো না। আমি অনুশোচনায় পিষ্ট হ‌ই,  নিজেকে বড়ই ছোট মনে হয়।


নেহাল : আঘাত দেওয়ার জন্য বলিনি।

             প্রত্যেক কিছুতেই নেগেটিভ পজেটিভ  দুটো দিক থাকে।

             আমাকে তুমি পজিটিভ ভেবে নিও।

              ছাড়ছি আজ।

             এখন রেখে দাও। 


নীলাদ্রি : আর একটু থাকো ?


নেহাল :  ভালো লাগছে না।


নীলাদ্রি : পরে আবার কখন ?


নেহাল : দেখি, সময় করে নেব।


নীলাদ্রি : কবিতা নিয়ে আজ আর দেরি করো না ,ঘুমিয়ে পড়ো।

                শরীর খারাপ করবে।

                  ভালো থেকো তুমি। 



                    ‌ ************

 

No comments:

Post a Comment

সম্পাদকীয়

সম্পাদকের কলমে-- কবিতা পত্রিকার সম্পাদনা কি কবিতার ভাষায় হতে হবে ? না, এমনটা নয়, কবিতা বস্তুত আমাদের বঙ্গবাসীর রক্তের মাঝেই রয়ে গেছে। একট...