জয়িতা ভট্টাচার্যর দুটি কবিতা--
১
স্বাধীনতা দিবস
কখনো বাম কখনো ডান
এভাবে আবার বাম দেখে
পথ পার হয়ে যাই নিরাপদে।
বাইক পথের অন্ধকারে
পাতা আছে নিপুণ তার আড়াআড়ি,
তেমন তেমন হলে
এখন নিঃশব্দে নেমে যাবে লাশ,
এভাবে আমরা স্বাধীনতা উদযাপন করি ইতরের দেশে।
বিড়িপাতায় মুখাগ্নি করি চাঁদের আলোয়,
ঘাতক আর সাধক,
দুজনে সমান ছায়া ফেলে।
এই ইতরের দেশ আমারই ,
এই ইতর দেশের কৃষক মজুর,আর
ধর্ষিতা মেয়ের রক্তে
জয় গোঁসাইয়ের পীরিত কথা
চাঁদের আলোয় জমে ওঠে বেশ।
নীরবে অনেক কিছু ঘটে
রাত-বিরেতে এখন।
বুড়ি চাঁদ ফোকলা মুখে,
প্রচ্ছন্ন মদত দেয় সন্ত্রাসে।
২
অপেক্ষা
আমার শ্রাদ্ধে সময় করে এসো একবার।
হয়ত ওরা কেউ কেউ চিনবে,
কেউ বসতে বলবে তোমার সুন্দর মুখ,ও পরিধান দেখে।
আমিও দেখব ওই
ছবি থেকে একবার, দেখব তোমাকে।
গাঢ় বেদনা বুকের ক্ষত হয়ে গেছে,
তোমার জন্য অপেক্ষা ছিল
অনেক অপেক্ষা...
আসোনি অন্তিম দিনে
সর্বশরীরে যখন লাইফ সাপোর্ট, একবার তখনও
খুঁজেছে একটা মুখ
এই নিভে আসা চোখ।
তুমি ব্যস্ত ছিলে
অনেক তখন।
হয়ত ফেসবুক বলে দেবে সমাপ্ত হয়েছে মেয়েটির
অনন্ত অপেক্ষা__
তুমি কি সময় পাবে আসতে শ্রাদ্ধ বাসরে!
আগাম আসার অনুরোধ,
ল্যামিনেটেড ছবি থেকে অপেক্ষা
একদৃষ্টে,
যদি নেমে আসো মঞ্চ থেকে,
কিম্বা প্রেমিকার বাহুডোর ছেড়ে !
সময় কি পাবে!
চটি ছেড়ে ঘরে ঢুকো,
শীতল লাশের মতো মেঝেতে পা দিয়ে
একবার দাঁড়িও আমার ছবির দিকে তাকিয়ে
দেখবে,দুচোখে লেখা ছিল শত শত
কবিতা
তোমার,শুধু তোমারই জন্য লেখা ছিল অশ্রুজলে।
No comments:
Post a Comment