শংকর ব্রহ্মর একগুচ্ছ-কবিতা--
-------------------------------------
১)
ফুলের অপব্যবহার
পূজা,আনন্দ উৎসব,এইসব জন কোলাহল
সব কিছু তুচ্ছ ভেবে,তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে
আজ আমি অনায়াসে চলে যেতে পারি,
কিন্তু যাব না ডাক্তার
এখনও অনেক কাজ বাকী যে আমার।
যার সঙ্গে সারা জীবনে একদিনও দেখা হয়নি
তার সাথে দেখা করতে হবে,
যে কবিতাটা এখনও লেখা হয়নি
সেটা লিখে যেতে হবে,
যে কথাগুলো আজও বলা হয়নি কাউকেই
জমে জমে পাথর হয়ে উঠেছে বুকে,
আমি বেশ সুখে আছি বুঝলে ডাক্তার
অসুখের ভানে,
মানে,মনে হচ্ছে এখনই আমি
সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে চলে যেতে পারি
কিন্তু এখনই এতসব কাজ,ফেলে রেখে আমি
কী করে যাই,বলো তো আমায়?
সেটা ঠিক হবে না আমার,বুঝলে ডাক্তার,
কী বুঝলে বলো?
চলো একবার বাগানের ফুলগুলো দেখে আসি,
ফুল দেখে যম খুব ভয় পায়,
হয়তো সে ভয় পেয়ে সরে যাবে দূরে,
অথচ মরার পরে,কেন যে লোকে
ফুল দিয়ে ঢেকে দেয় তারে?
২)
বৃষ্টির ঠিকানা .
•••••••••••••••••••••
তুমি এক নির্বোধ তাই ভাবো আকাশটা নীল
তুমি এক উজবুক তাই ভাবো গোলাপটা লাল
এর চেয়ে সতেজ সবুজ ফুল দেখেছো কখনও?
সদরে দাঁড়িয়ে বল আকাশের রঙ ঘন নীল
আকাশটা নীল এ কি কোন বিশেষ সংবাদ?তর্ক থাক রঙ বলে আকাশের কোন কিছু নেই
যা আছে তা হল বৃষ্টির ঠিকানা,
বৃষ্টির মত কোন ভালবাসা নেই
যা সময়ে ঝরে যাবে ফসল ফলাবে।
সমস্ত জীবন যার বুক জুড়ে সমুদ্র আকাশ
তাকে তুমি স্বাভাবিক গলায় শেখাও
ভালবাসাহীনতাই পাপ।
তুমি এক আহাম্মক
তাই আজও ভালবাসা মানো
গোলাপের সাথে কর রমনীর ঠোঁটের তুলনা।
-----------------------
৩)
স্মৃতি তুমি আমাকে ফেরাও
---------------------------------
একা একা ক্রোধে সমস্ত বেলা পুড়ে যায়
জেগে রয় তোমার দু'চোখ শুধু গভীর গহন,
দু'চোখ ফিরিয়ে নাও আমাকে পুড়তে দাও
একা একা আমার ভিতর।
যে রমনী রেখে যায় স্মৃতি তাকে আমি প্রতারক ভাবি
তাকে আমি অবহেলা করি
তাকে আমি আজন্ম নগ্ন করে অন্ধকারে সভ্যতা শেখাই।
সূর্যকে ছুঁয়েছে নারী এমন একজন আমাকে দীক্ষা দিক,
আমাকে আপন করে নিক
আমাকে নির্লিপ্ত করে কামনায় সে আমাকে সৃজন শেখাক।
দু'চোখ ফিরিয়ে নাও স্মৃতি তুমি সূর্যের দিকে
সময় ফুরিয়ে গেলে কেন তুমি প্রতারক হবে?
কেন অন্ধকারে একা একা পুড়ে যাবে,
গলে যাবে মোমের মতন অন্ধকার হয়ে?
স্মৃতি তুমি আমাকে ফেরাও।
-----------------------
৪)
জানা অজানা
------------------
আমার কবিতা অন্ধের অনুভবে বুঝতে হয়
যেন কষ্টিপাথরে গড়া কোন দ্রাবিড় রমণী
আমাকে উপেক্ষা করে নিজেই মুগ্ধ থাকে নিজের ভিতরে
যেন অন্ধ বাউল আমি নদীর এধারে
একতারা হাতে আপন খেয়ালে মাতি
নদী তার আপন স্বভাবে হারায় সুদূরে।
কবিতা কবিকে চায়, কবিও তো চায় তাকে
মাঝখানে থাকে তবু বিস্তর ফারাক
কবি সেটা জানে, কবিতারও অজানা তা নয়।
--------------------------------
৫)
শেষ পর্যন্ত
----------------------
আমরা অনেকেই জানি, কিভাবে আমাদের বোকা বানান হয়।
জিনিষের দাম হু হু করে বেড়ে ওঠে
আর এখানে শিশু-খাদ্যে আর ওষুধে মেশানো হয় ভেজাল
আমরা প্রত্যক্ষ করলেও
তার জন্য আমাদের কন্ঠ কখনোই মুখর হয়ে ওঠে না প্রতিবাদে।
তিল তিল করে কি ভাবে আমাদের হত্যা করা হয় প্রকাশ্যে
এসব জানার পর কি-ই বা করতে পেরেছি আমরা?
আমরা অনেকেই তো জানি,
কি ভাবে ফুল ফুটে ওঠে গাছে
কিংবা কিভাবে বিস্ফোরিত হয় আনবিক বোমা।
এবং যারা গাছে গাছে ফুল ফোটায়
অথবা আনবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়
তাদের আচার আচরণও খুব একটা অজানা নয় কারও
এসব জেনে বুঝেই বা কি লাভ হয়েছে আমাদের?
ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভেসে
আহাম্মক হওয়া বন্ধ না হলে
কি আর লাভ হবে শেষ পর্যন্ত আমাদের?
--------------------------------
৬)
ফেলনা
----------------------
ভালবাসি বললেও কিছু বলা হয় না
ভালবাসা কথাটা তো হয়ে গেছে ফেলনা,
ব্যবহৃত হতে হতে কমে গেছে ধার তার
'ভালবাস' শুনলেও বুকটা ভরে না আর।
আসলে কি হয় জান, মানো কিংবা না-ই মানো
ভালবাসা কথাটার ভিতরে বেঁধেছে বাসা,
কত রকমের সুখ, কত রকমারী আশা
পাবার কিংবা দেবার নানা রূপ অভিলাষা
ভালবাসা কথটার মানে আজ ভাসা ভাসা
তাই ভালবাসা মোটেই তো নিঃস্বার্থ হয় না,
ভালবাসা কথাটা বড় হয়ে গেছে ফেলনা।
--------------------------------
No comments:
Post a Comment