ডাঃ সুভাষ চন্দ্র সরকারের তিনটি কবিতা--
১
*বর্ষার পল্লী গ্রাম*
----------------------------
আষাঢ়ের কালো মেঘ নিয়ে এলো বরষা,
চাষির মনে এলো অন্ন যোগাবার ভরসা।
ছোট্ট ছোট্ট ছেলে মেয়ে ছোট জলাশয়ে,
বর্ষার বিরতিতে ছোট মাছ ধরে।
মনের আনন্দে কোলা ব্যাঙ ডাকে,
অসহায় শিয়াল গুলো বেসুরে কাঁদে।
আষাঢ়ের বৃষ্টি তে নদী ভর পুর,
বৃষ্টি তে ছোট্ট পাখি কাঁপে তুরতুর।
জেলেরা সব জাল নিয়ে যায় মোহনাতে
ইলিশের ঝাঁক আসে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে,
গাঁয়ের মেঠোপথ কাঁদায় প্যাঁচ প্যাঁচ,
সওদা বোঝাই গরুরগাড়ি চলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ।
গাঁয়ের সন্ধ্যা নামে চারিদিকে মিশকালো,
ভেজা পাতায় জোনাকিরা জ্বেলে যায় আলো।
২
*ভালো আছি*
***************
এই তো আমি ভালো আছি
বৃদ্ধাশ্রমে সবাই যেন;এক পরিবার
রাগ দ্বেষ নেই কারোই মনে,
তাই তো আমি ভালো আছি।
আমার জন্য খোকাকে
কথা শুনতে হয় না ; বৌমার কাছে,
আমি বৃদ্ধাশ্রমে, তাই তো ভালো আছি।
দুপুরের খাবার আমাকে
বৌমাকে দিতে হয় না দোতলায়;
নাতি কেন আসবে আমার কাছে
জোর করে তাকে সামলায়,
আমি এখন বৃদ্ধাশ্রমে
নেই তাদের উটকো ভাবনায়।
তাই তো আমি ভালো আছি।
বৌমা বলে প্রেশারের বড়ি
কেন খাই দু বেলা?
একবার খেলে তো হয়,
মাছ ডিম খেয়ে কেন;গ্যাস বাড়াই?
নিরামিষ খেয়ে;গ্যাসের বড়ি সকাল বেলায়।
আমি এখন বৃদ্ধাশ্রমে ওদের খরচ কম,
তাই তো আমি ভালো আছি।
আমার পেনশনের টাকা
সবটা কেন দেই না ; ওদের কষ্ট হয়,
মাস্টারি করে চলে না সংসার
ঋণের বোঝা খোকার মাথায়
আমি বুড়ো কেন ঋণ বাড়াই;
রেখে গেলে বৃদ্ধাশ্রমে,
এ যেন এক বড়ো পরিবার
তাই তো আমি ভালো আছি।।
৩
*রঙ বদলায়*
ওরা রঙ বদলায়
দিন-রাত সুযোগ খুঁজে বেড়ায়,
ওরা গিরগিটি কে ও হার মানায়।
সমাজে ওদের নাকি বড়ো নাম ডাক
আবার একা চলতে বড়ো ভয় ,
ভিক্ষা দিয়ে বাহিনী পোষে,
সুযোগ পেলে ওদের দেয় হাঁক,
ওরা রঙ বদলায়।।
যদি হয় ঝড়-জল; ভাঙে নদী বাঁধ
ওরা বগল বাজায়,
হাত জোড় করে ; বিনম্র ভঙ্গিতে
জনগনের সামনে দাঁড়ায়।।
ওরা নাকি নিয়োজিত সমাজ সেবায়,
এইডাল থেকে ওই ডালে;পছন্দ না হলে
আবার রঙ বদলায়,
ওরা গিরগিটিকেও হার মানায়,
মুখোশের আড়ালে রঙ বদলায়।।
No comments:
Post a Comment