দিলীপ সরকারের (চাণক্য) দুটি কবিতা--
১
মনের মানুষ
তোমাকে ভাবতে গিয়ে ভেবে ফেলেছি গোটা ব্রক্ষ্মাণ্ড
নীহারিকাপুঞ্জ থেকে আকাশগঙ্গা
অসংখ্য ছায়পথ আর কালোগহ্বর।
তোমাকে দেখতে গিয়ে দেখে ফেলেছি
গোটা পৃথিবীর সব মহাসাগর, মহাদেশ।
তোমাকে ভালোবাসতে গিয়ে ভালোবেসেছি
ফুল, শিশু প্রকৃতি আর নিজেকে।
কত কৌতূহল যে তোমার অবয়বে!
আমার জিজ্ঞেসা যেন শেষ হতে চায় না?
ছয় ঋতুর মতো তুমিও পরিবর্তন শীল।
তোমার চোখে বর্ষা নামে
বসন্তের ফুল ফোটে
তোমার হৃদয়ে তীব্র দহনের খরতাপ,
শরৎের কাশ ফুলে তুমি সেজে ওঠো
পেঁজা তুলোর মেঘে আলপনা ছড়াও সারা শরীরে।
মনের গহনে শীত এলে তুমি কুঁকড়ে যাও
আমার বুকে এসে তাপ খুঁজে ফেরো।
কত না বলা কথা পাহাড়ের নিস্তব্ধতায় চেয়ে চেয়ে
সন্ধ্যা আলোর মতো দূরে বহু দূরে
কুয়াশা হয়ে শুধু প্রশ্ন করে যায়!
অনন্ত জিজ্ঞেসা যুগান্তরের যুগ পেরিয়ে
তবুও পিপাসা মেটেনা মনের মানুষের।
২
অভিধান
সেই কিশোর কিশোরী চোখেই
তোমাকে পড়ার,তোমাকে জানা’র আগ্রহ, কৌতূহল।
দুই একটা সমুদ্রের, মহা সাগরের কূল দেখেছি মাত্র,
নদী পথে আঁকাবাকা কিছুটা পথ
নল,কাশ,হোগলার সমারোহ আর চাষের জমি।
গ্রাম, শহরে চলতি পথে যতটা তোমাকে পড়া যায়।
পাহাড়ের মালভূমির কিনারায় দাঁড়িয়ে
দুই হাতের আলিঙ্গনে তোমাকে পেয়েছি কল্পনায়।
ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকে অরণ্যের গভীরে
কত যে নতুন শব্দ রাশি,
পড়তে পারিনি আজীবন।
হয়ত কেউ কোন দিন তোমাকে পড়তে পারবে না
তোমার বিশালতা, তোমার গভীরতা রহস্যময়,
কেউ পারেনি জানতে,
আজন্মকাল অজানাই থেকে যাবে তুমি,
সৃষ্টির শুরু থেকে আজ-ও সেই অবাক কৌতূহল।
বিস্ময় নিয়েই তাকিয়ে দেখি আকাশের তারার দিকে।
পৃথিবী ভেঙে ই নাকি চাঁদের সৃষ্টি
অতঃপর ঋতু, বৃষ্টি, বায়ুমন্ডল, জোয়ার ভাঁটা
ধীরে ধীরে প্রাণ সঞ্চারিত
আর বিবর্তনে তুমি আমি।,
No comments:
Post a Comment