রূপা বাড়ৈয়ের দুটি কবিতা--
১
মুগ্ধ ছোঁয়া
প্রকৃতির রঙ মেখে কাব্য সেজেছে ছন্দে
রামধনুর সাজ দেখে মুগ্ধ ছোঁয়া পাই কাব্যে,
শত ফুলের রূপ ঝরেছে কাব্য শরীর বেয়ে
স্বপ্নীল ভালোলাগায় হৃদয় মন ছেয়েছে।
ছন্দ শব্দ মিলে গড়েছি রঙীন কাব্য'কে
স্বপ্নের মতো গুণ দেখি কাব্য দেহ ভাঁজে,
কী করে বুঝাই ডুবেছি স্বপ্ন -কাব্য সাগরে
শয়নে স্বপনে কাব্য মুখ ভেসে ওঠে অন্তরে।
নির্লিপ্ত নির্মল পদ্ম ফুটেছে প্রেমিক মনে
ভেসে যেতে ইচ্ছা জাগে কাব্য সাগর জলে
কাব্যকথা গাঁথা আছে, সৌন্দর্য কমলে
সবার উর্ধ্বে প্রেম থাকবে কাব্য নির্মলে।
অন্তর্লীন সত্তায় কাব্য পুষি হৃদয় গভীরে
সৌন্দর্যের ভাঁজে ভাঁজে ফুলের আবীরে,
মঞ্জুরিত সৌরভ ছোটে ফুটন্ত ফুলবনে
গুঞ্জরিত ভ্রমর বসে ফুল মধু আহরণে।
মৃদুমন্দ শিহরণ জাগে যৌবনা কাব্য ঘাটে
শাশ্বত বন-ভূমিতে পাগল প্রেমিক যায় ছুটে,
প্রেমিক মন হারায় বর্ষা দেবীর সন্ধিক্ষণে
কাব্য অঙ্গে ছন্দ ছড়ায় বর্ষার আলিঙ্গনে।
দগ্ধ প্রকৃতি সতেজ হয় বর্ষাজলে ভিজে
ভেজা বাতাস নির্ভয়ে কাব্যে জড়িয়ে থাকে,
সুতীব্র আহ্বানে কাব্য থাকে সুখ ছুঁয়ে
মনের বনে ফাগুন এসে দেয় কলি ফুটিয়ে।
২
পাহাড়ী নদী
ছোট্ট নদীর বুকে কষ্টের ছোট ছোট পাথর পুষে
প্রাণহীন সুবিশাল এক পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছে,
এখন আর জলের লেশমাত্র নেই সেখানে
শাপলা, কচুরিপানা সব বিলীন হয়েছে।
একদিন যে নদীতে ছিল স্বচ্ছ জলের স্রোত
যেখানে ভাটির শেষে ছুটে আসতো জোয়ারের জল,
ছেলে-মেয়েরা ঝাঁপিয়ে পড়তো স্নান করতে
মাঝিমাল্লা গান ধরতো পালতোলা নৌকা বেয়ে।
সেই স্বচ্ছ নদীর কোন অস্তিত্ব নেই আর কোথাও
সেখানে এখন শুধু লতাপাতায় জড়ানো
এক কষ্টের পাহাড় জেগে আছে,
বিবর্ণ অরণ্য ঘিরে বেঁচে আছে পাহাড় জুড়ে।
সেই পাহাড়ে হয়তো আবার কোন একদিন
দেখা যেতে পারে জলের ধারা
যদি কখনো কষ্টে কষ্টে ঘর্ষণ লেগে পাহাড় যায় ঘেমে
তবে সেখানে ঝর্ণার উৎপত্তি হতে পারে
প্রবহমান জলের স্রোতে সৃষ্টি হবে আবার এক নদী।
সেদিনই হবে বহমান নদীর সার্থক সৃষ্টি পাহাড়ের বুকে।
No comments:
Post a Comment