তৈমুর খানের তিনটি কবিতা--
১
নশ্বর কথারা
নশ্বর কথারা প্রতিদিন ঝরে পড়ছে
কথাদের আলোর বাজারে
দুর্মুখ বিহ্বল আমি
প্রত্যহ ধাঁধায় ফিরে আসি
যেসব ভালোবাসাগুলি প্রকাশ হয়
অথবা চুম্বনগুলি মেঘের মতো
বৃষ্টি ও রোদে মাখামাখি
তাদের দেখে নিই
আর স্নেহের প্রকাশে
অথবা মরমি কান্নায় সচকিত হই
কথাদের মনে হয় যুবক-যুবতী
যৌবন আকাঙ্ক্ষার নিগূঢ় প্রাচূর্যে
আভাসিত
অথবা ক্লান্তিহীন স্বর্গীয় বিভাস
চারিপাশ জুড়ে কথা
কথারা প্রজাপতি
কল্পনার ঘরদুয়ার জুড়ে তাদের খেলা
সামাজিক শাসনে প্রত্যয়দণ্ড
কখনো কখনো বিদ্রোহ
রোজ ভিজে যাই
উষ্ণ হই
নীরবতায় জাগরণে কথারা যাওয়া আসা করে
রাত হয়ে যায়
বুঝি না কথাদের
কোনো এক গূঢ় ছলনায় তাদের বসতি ।
২
সমস্যা
সমস্যা এসেছে আজ
আমার নির্বাক জিজ্ঞাসায় তাদের আনাগোনা :
কী চাও? কী নেবে আর?
ধ্বংস ছুঁড়ে দিচ্ছ শুধু
নিরশ্রু কান্নার ভেতর নিরন্তর অগ্নিমাছ!
আমি নিরীহ প্রজ্ঞার কাছে ছায়া টেনে নিইনিজেকে ঢেকে রাখি নিস্তব্ধতায়যুগের আলোরা প্রতারকএকটিও প্রদীপ নেই স্বপ্নে জ্বালাবার
হাওয়া আসছে তবু, ঘর ও বাহিরে হুড়োহুড়ি
পোশাক বদলের সময়ও দিচ্ছে না
পিপাসার কারুণ্য ভরা গ্লাসে অবাস্তব সময়ের ঢেউ
বলতেও দিচ্ছে না কিছু, চারিপাশে জমছে না-বলা
সমস্যার নতুন মুখ —রক্ত নাকি আলতা পরেছে?
পা নেই ওর —কথা কাটাকাটি শুধু
কথা কেটে কেটে তাড়াচ্ছে ঘুম
রাত জেগে জেগে উদ্বেগে আছে বিশ্বাস
৩
অপমান
অপমান খুব আনন্দে আছে
বাক্যবাণ সুতীক্ষ্ণ ওর
প্রাচীন পদ্ধতির আস্ফালন
সপাঠ ক্রিয়াগুলি দুর্বিনীত, অন্ধ প্রাবল্যে আসীন
সত্যকে কী করে ডাকব আজ?সত্য মৃত, মৃতকে চেনে না সমাজ।মিথ্যার কূপ খুঁড়ে প্রহর গুনে গুনেচেয়ে আছে উন্মুখ ভ্রান্ত কৃষক
অপমান কারও কেউ নয়
কোনও অপার্থিব রুচিও তাদের নেই
শুধু বিষণ্ণ খাদের কাছে এনে
ফেলে দিতে চায় নিচে, সে অনেক নিচে
যদিও দাঁড়াই ঘুরে, যদিও যুক্তিকে ডাকি
তবু দেখি যুক্তি নেই, মুক্তিও ঘুমাচ্ছে খাঁচায়
সে-ও তবে কারও পোষাপাখি?
অপমান আনন্দে আছে, মুখে তার কী সুন্দর তীব্র চুনকালি!
No comments:
Post a Comment