c
১
প্রেম
প্রেম মানে এক আকাশ বৃষ্টির পরে এক চিলতে রোদ্দুর
প্রেম মানে চাতকের ঠোঁটে এক বিন্দু জল|
প্রেম মানে ফুলের বুকে মহীরুহের বীজ
প্রেম মানে গ্রীষ্ম কালের শীতল বাতাস|
প্রেম মানে ঈদের রাতের চন্দ্র কলা
প্রেম মানে শীতল রাতের উষ্ণ পরশ
প্রেম মানে বসন্তের শিমুল পলাশ|
প্রেম মানে দূরে থেকেও মনের মাঝে থাকা,
প্রেম মানে একে অপরের বিরহে কেঁদে ওঠা
প্রেম মানে মাটি মায়ের সোঁদা গন্ধ গায়ে মাখা
প্রেম মানে একে অপরের সম্মান রাখা|
প্রেম মানে খোলা চোখে স্বপ্ন দেখা,
প্রেম মানে অভিমানের বোঝা জমিয়ে রাখা|
প্রেম মানে একে অপরের সব স্বপ্ন আঁকড়ে রাখা,
প্রেম মানে লোহার বাসরে ছিদ্র কাটা|
প্রেম মানে উজান ভাটির তালে ভাসানো এক তরী,
প্রেম মানে রবি ঠাকুরের গান, বাউল বাতাস শিশুর কলতান|
প্রেম মানে গভীর নীরবতা, রাখে ভালোবাসার মান|
২
তবে ক্ষমা করে দিও
তবে ক্ষমা করে দিও
যদি তোমাকে দেওয়া কথা না রাখতে পারি,
যদি মৃত্যু এসে নিয়ে চলে যায় আমায়?
যদি নিয়তির পরিহাসে তোমার সাথে আমার
আর দেখা নাহি হয়,
তবে
ক্ষমা করে দিও মোরে মোর প্রিয়তম|
শুধু এটুকু জানিও মোর
শেষ নিঃশাস টুকু পরেছিলো
শুধু তোমারি তরে,
মোর নয়ন দুখানি শুধু তোমারে দেখিবার আশে
পথের পানে চাহিয়া ঝরাইয়াছে অজস্র আঁখিবারি|
কালের পরিহাসে যদি যাই চলে,
অজানা অচেনা সীমানায় ?
তবু যেন আমি আবার তোমার কাছেই আসবো ফিরে
আমাদের স্বপ্নে গড়া নিজস্ব ঠিকানায়|
এই জনমে তোমাকে দেওয়া
কথা যদি হয় ভঙ্গ প্রিয়তম,
এই জনমের কথা ভাঙার অপরাধে
ক্ষমা করে দিও আমারে |
বিশ্বাস রেখো অন্তর আত্মায়,
পরজনমে মিলবো বাধাহীন ভাবে দুজনে|
৩
বেলাশেষে
দিগন্তের প্রথম ঊষার কিরণ ও বেলা শেষে অস্ত যায়,
আজ যে ফুল ফোটে কালের নিয়মে কাল তা বাসি হয় |
তুমি অকৃপণ হয়ে ঢেলে দিয়েছো সবটুকু ভালোবাসা মোরে
তবু আজ বড়ো নিজেকে অবাঞ্ছিত মনে হয় |
তোমাকে হারাবার ভয়ে প্রতিমুহূর্তে নিজেকে গুটিয়ে রাখি,
কৃষ্ণ প্রেমে মন আজ আমার দিশেহারা,
কোন পুন্য বলে এই অবাঞ্ছিত নায়িকারে তুমি দিলে ধরা |
সাথে আছো পাশে আছো নিশ্বাসে আছো প্রশ্বাসে আছো,
তবুও তোমায় হারাবার ভয়ে হৃদয় কম্পিত হয় মিছে আশঙ্কায়,
মরার আগে আর মরতে চাইনা আমি
আমার অবাঞ্ছিত জীবনের চেয়ে তুমি যে
অনেক অনেক অনেক বেশী দামী|
তুমি চাও আমি যেন সবসময় প্রাণ খুলে হাসি,
আর আমি চাই আমার বাকি জীবনের সবটুকু দিয়ে,
যেন তোমাকে শুধু তোমাকেই ভালোবাসি |
৪
তুমি যদি আকাশ হও,
তুমি যদি আকাশ হও,
তবে আমি মেঘ হবো
সাদাকালো নানা রঙে ভেসে বেড়াবো,
তোমার বুকে মহাসুখে|
তুমি যদি ধরিত্রী হও,
আমি তবে বৃষ্টি হবো
প্রচন্ড দাবদাহে তোমাকে স্নাত করতে
ঝরে পড়বো তোমার কোলে,
সজল রসে তোমাকে করে তুলবো শস্য শ্যামলা|
তুমি যদি পাহাড় হও,
তবে আমি ঝর্ণা হয়ে তোমার পাদদেশ ধুয়ে দেবো,
আমারি স্পর্শে তোমার বুকে ভরে উঠবে
সবুজের বাতায়ন |
তুমি যদি চোখ হও
আমি তবে তোমার দুচোখে
নানা স্বপ্নের আলপনা এঁকে দেব|
তুমি যদি সাগর হও
আমি তবে নদী হয়ে দুকূল ছাপিয়ে
তোমার সাথে সঙ্গমে রত হবো |
তুমি যদি সুর হও
আমি তবে সেই সুরেরই সরগম হবো |
তুমি যদি দুর্বাসা মুনি হও,
আমি তবে মেনকা হয়ে তোমাকে
নৃত্যরসে ভিজিয়ে নতুন এক শকুন্তলার জন্ম দেবো |
তুমি যদি হীর হও
আমি তবে তোমার রানঝাঁ হবো
তোমাকে ভাসাবো আমার প্রেম সাগরে|
৫
একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধ
একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি মোরা
আমাদের চাই পরাধীন নয় স্বাধীন বাংলাদেশ |
দেশ নেতা মুজিবর রহমান আজ পাকিস্তান কারাগারে বন্দি
ফিরিয়ে আনবো আমাদের প্রাণের মুজিব কে
না করে পাকিস্তানীর সাথে কোনো সন্ধি |
প্রয়োজনে রক্ত দেবো করবো আমাদের জীবন দান,
তবুও দেবোনা ক্ষুণ্ন হতে আমাদের দেশবাসীর আত্মসম্মান|
শুনবো আমাদের মহান নেতা মুজিবের কথা,
শীতল রাতেও চাইনা মোদের শীতের রাতের কাঁথা |
ভয় কি মোদের দেশনেতা মুজিবের
বজ্রহুঙ্কার আছে আমাদের সাথে,
যুদ্ধে যাবার আশীষ দিয়েছে গর্ভধারিণী মা
হাতটি দিয়ে আমাদের মাথে|
আনবো আমরা বাহাত্তরের সুদিন
নিপাত যাবে পাকিস্তানীর সেনা নায়ক সেদিন|
ভুলবোনা কোনোদিন আজ আমার ভাইয়ের তাজা রক্তে
ভেসেছে আমার মাতৃভূমি|
মাতৃভূমির ঋণ চুকাতে যাচ্ছি মাগো মুক্তি যুদ্ধের ময়দানে,
যুদ্ধ শেষে ফিরতে যেন পারি মাগো জন্মভূমির মহান
এই বাংলাদেশে তোমারই আশীষ দানে|
৬
অন্য স্বাদ
সুখের কথা ভুলে গিয়ে চক্ষু ভাসে অশ্রু জলে,
চোখের খুশি ঝিলিক মারে বজ্র মেঘের রূপ ধরে,
আলো কেমন কালো হয়ে মুখ মন্ডলে টুক করে
মনের আয়না তুলে ধরে|
কান্নারা নীরবে এসে ভীড় করে নীল লোহিতের চোখের পরে ,
মন তখন গেয়ে ওঠে নয়ন ভরা জল গো তোমার |
মনের গান শুনে ফুল বলে আমিও তো আছি তোমার আঁচল ভরে,
ফুলের কথায় অলিরা হেসে উঠে বলে আজ এসেছে নব বসন্ত |
ভাট বাসকের সাথে সাথে শিমুল পলাশ কৃষ্ণচূড়া
হাসে মিটি মিটি,
ওদের হাসি দেখে কোয়েলিয়া গেয়ে ওঠে
মনের ঘরে দোলা দিলো কেড়ে আজি বসন্ত এলোরে |
পুস্প বিছানো পথের পরে কার স্পর্শে পুস্প দলে,
সবুজের বাতায়নে মখ মলের চাঁদর বিছালো কেড়ে|
হৃদয় থেকেই মনে হয় একটা কথা বেরিয়ে এলো
লাল নীল সবুজের মেলা বসেছে দেখো দেখো দেখো এসে,
খুশির হলিতে আজি সুখের আবির মেখেছে |
সূর্য তখন অস্ত যেতে যেতে পিছনে তাকিয়ে নিজেকে
উজাড় করে তার অবশিষ্ট রক্তিম লাল রঙ ঢেলে দিলো পশ্চিম আকাশে |
গোধূলি মুখে তার রঙ মেখে আনন্দে গাইলো
আজি সন্ধ্যা হলো মনের প্রদীপ জ্বালো|
ঘরে ঘরে জ্বলে উঠলো সন্ধ্যা প্রদীপ, প্রদীপের শিখায়
পতঙ্গ এলো ছুটে, আর গাইতে লাগলো যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে?
একলা চলোরে |
পতঙ্গের গান শুনে ছুটে এলো কিশোর কিশোরীর দল,
মনের গোপন ব্যথা জানাবার জন্য ডাক দিলো নওজোয়ান এক হও |
ওদের আহ্বানে নও জোয়ান গাইতে লাগলো আমরা নও জওয়ান
আমরা নই যাযাবর কান্ডারী তুমি হুঁশিয়ার|
প্রাণ ভয়ে ভীত কম্পিত হয়ে কান্ডারী বলে বিবাদে কাজ নাই ভাই,
এসো ভাই আমরা একত্রিত হয়ে সাম্যের গান গাই |
সাম্য বলে তবে তাই হোক এসো সবে রেখে হাত হাতে,
সম্প্রীতির সাথে মিলেমিশে থাকি হাসি খুশি থাকি এক সাথে
No comments:
Post a Comment