বীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের তিনটি কবিতা--
১
মিথ্যাকথা
আমি যখন সত্যিকথা বলি
কোন পরিনামের কথা না ভেবে,
তুমি শোন , চুপ থাকো কিছুক্ষন,
আমার খুব হালকা লাগে ।
কথাগুলি তোমাকে বলা হয়নি তুমি খুশি হবে।
ভাবি তুমি উপহার স্বরূপ আমাকে আদর করবে,
যত্ন করে কতকিছু মনিরতন দেবে আমায়।
তুমি আশ্চর্য হয়ে বলবে, আমি জানতাম না তো।
কিন্তু একি তোমার দৃষ্টি হঠাৎ কঠোর--
অপলক তাকিয়ে থাকলে কিছুক্ষণ।
একটা ক্ষমাহীন হাসি দিয়ে এক পলকে ঘুরে ডাকলে,
তোমার ক্যাসিযাস আর ব্রূটাসের দলকে।
তারপর তারা তাদের শানিত ছুরিকাঘাতে
ক্ষতবিক্ষত করে টুকরো টুকরো করে ফেলল
আমার জীবনের অস্তিত্বের সত্য ।
এত সুন্দর সত্যি কথা তুমি বলো কেন ? কোন সাহসে ?
আমি সত্যের প্রতি অবিচল, সত্যের বিরোধী নই ।
বেশি সত্য কথা আমাকে বলবে না।
আমি সাধারণ কিছু অসাধারণ আমাকে বোলো না।
২
বৃষ্টির মতন
তুমি যখন সব কিছু ভুলে আমার সাথে উঠলে
পর্বতের শিখর চূড়ায
হাতে হাত চোখে চোখ রেখে অপলক।
সমস্ত শরীরটা মিশিয়ে দিলে
আমার শরীরের প্রতিটি শিরা উপশিরা যেন
ধনুকের ছিলা উদ্যত তীব্র বেগে শর নিক্ষিপনে।
থরথর কেঁপে কেঁপে ওঠে পর্বত নিশ্চল নিথর শিখর,
হতাশা আর প্রবল আত্মসমর্পণের ক্ষোভে।
প্রচন্ড বিস্ফোট শিখরচূডা সিক্ত তীব্রতার উষ্ণ লাভাস্রোতে ।
স্তব্ধ বাতাস উচ্ছল মেঘ ও আকাশ--
জল বলে ধরোধরো প্রকৃতি তোমার সুবাস।
তুমি স্নিগ্ধ শীতল পবিত্র অমৃতের উচ্ছাস।
৩
প্রকৃতির প্রেম
বীরেন্দ্র নাথ মন্ডল
ভালোবাসা যখন হলো। তোমার সাথে।
আমার মনের শিহরন হল প্রেমাস্পদ।
আমি হয়ে গেলাম একেবারে
সরোবরের প্রস্ফুটিত সুবাসিত পদ্ম।
নীল আকাশে সুদূর তারাই থাকা
পরমাত্মার সাথে ছড়ালো প্রেমের তৃপ্তি।
নিঃসঙ্গতা বদলে হল পৃথিবীজোড়া ব্যাপ্তি।
মন বলে উঠলো আমি একা নই নই আমি একা।
ধূসর পাহাড়ের পাদদেশ ছেয়ে গেল
শাল পিয়ালের ঘনঘোর বনের মায়া।
খোলা মাঠের প্রান্তর হল সবুজ বনের ছায়া।
সেখানে অসংখ্য পাখির গুঞ্জন কলরব
নীল আকাশে তাকাই শুধু একই প্রকৃতির অনুভব।
ভালোবাসা প্রেম এই কি পৃথিবী?
শ্রীকৃষ্ণ তাইতো এত সুন্দর
শ্রীরাধার হাতে তোমার বাঁশরীটি ।।
No comments:
Post a Comment